VCCR.BLOG

আমি এই ঋণ শোধ করব না! —হুমায়ুন ফরীদি

সম্পাদকীয় দল

Dec 19, 2025

আমি এই ঋণ শোধ করব না! —হুমায়ুন ফরীদি

বাংলাদেশে অভিনয়ের জগতে তিনি ছিলেন এক এবং অদ্বিতীয়। তিনি কাঁদাতে পারতেন, হাসাতে পারতেন, আবার ভিলেন হিসেবে পর্দায় উপস্থিত হয়ে মুহূর্তেই দর্শকদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করতে পারতেন। তিনি কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি

কিন্তু পর্দার আড়ালে কেমন ছিলেন এই মানুষটি? একজন মুক্তিযোদ্ধা, অভিনেতা বা আবৃত্তিকারের বাইরেও তাঁর ছিল এক বিশাল হৃদয়। আজ আমরা জানব হুমায়ুন ফরীদির জীবনের এমন কিছু জানা-অজানা গল্প, যা শুনে আপনিও হয়তো অজান্তেই বলে উঠবেন—"এমন মানুষ কি আর আসবে?"

🎓 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও এক অদ্ভুত ঋণের গল্প

হুমায়ুন ফরীদি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (JU) যেন এক আত্মার বন্ধন। ছাত্রজীবনে তিনি প্রচুর বাকী খেতেন ক্যাম্পাসের দোকানগুলোতে। অবাক করা বিষয় হলো, সেই আমলের দোকানদাররা ফরীদির সেই বাকী নিয়ে কখনো অভিযোগ করেননি, বরং তারা এই বাকী দেওয়াটাকে গর্ব মনে করতেন!

একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে সুমন নামের এক ব্যক্তি ঠাট্টা করে ফরীদিকে বলেছিলেন,

"ভাই, আলবেরুনীর ক্যান্টিনে আপনার ৩১৯ টাকা বাকী আছে। দয়া করে শোধ করে যাবেন!"

উত্তরে ফরীদি যা বলেছিলেন, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকার মতো। তিনি বলেছিলেন:

"আমি এইটা শোধ করব না।"

সবাই অবাক হয়ে কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন:

"আমি এই ক্যান্টিন, হল, ক্যাম্পাস, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মানুষগুলোর কাছে আজীবন ঋণী থাকতে চাই।"

টাকার ঋণ হয়তো শোধ করা যায়, কিন্তু ভালোবাসার ঋণ তিনি এভাবেই রেখে যেতে চেয়েছিলেন।

🌧️ কথা দিয়ে কথা রাখা: বৃষ্টিভেজা রাতের সেই গল্প

হুমায়ুন ফরীদি তখন হোতাপাড়ায় শুটিংয়ে ব্যস্ত। হঠাৎ গভীর রাতে ঢাকা থেকে পরিবারের জরুরি কল এলো। রাত তখন দুইটা, বাইরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি। তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।

বেশ খানিকটা পথ চলে আসার পর হঠাৎ তাঁর মনে পড়লো—প্রোডাকশন বয় ইসমাইলকে তিনি কিছু বকশিশ বা টিপস দেবেন বলেছিলেন এবং তাকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। ছেলেটা হয়তো টাকার আশায় বৃষ্টির মধ্যে এখনো বসে আছে।

বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না, সেই ঝুম বৃষ্টির রাতে জরুরি কাজ ফেলে তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে আবার হোতাপাড়ায় ফিরে গেলেন। ইসমাইলকে খুঁজে বের করে তার হাতে টাকা দিয়ে তবেই আবার ঢাকার পথ ধরলেন। কথা দিয়ে কথা না রাখাটা যে ফরীদির ধাতে ছিল না!

🎤 শব্দের জাদুকর: হুমায়ুন আহমেদের চোখে ফরীদি

জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ একবার তাঁর একটি লেখায় ফরীদিকে নিয়ে দারুণ এক স্মৃতিচারণ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তিনি দেখলেন বহু লোক একজনকে ঘিরে মন্ত্রমুগ্ধের মতো দাঁড়িয়ে আছে। কেউ হাসছে, কেউ হাততালি দিচ্ছে।

দৃশ্যটি দেখে লেখকের মনে হয়েছিল, মাঝখানের মানুষটি নিশ্চয়ই কোনো জাদুকর! কাছে গিয়ে তিনি দেখলেন, ঝাঁকড়া চুলের এক টগবগে যুবক কথা বলছেন। কথা বলার মাঝেই ছিল এক অদ্ভুত আর্ট বা শিল্প। অন্য যেকোনো দশজন মানুষের চেয়ে তাকে আলাদা করা যেত। সেই জাদুকর আর কেউ নন—স্বয়ং হুমায়ুন ফরীদি।

🎖️ একাধারে শিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা

তিনি শুধু অভিনেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন একাধারে:

  • মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা 🇧🇩

  • শক্তিশালী নাট্যশিল্পী ও অভিনেতা 🎭

  • আবেগঘন আবৃত্তিকার 🎙️

  • এবং একজন পুরোদস্তুর মানবিক মানুষ ❤️


📚 জীবন ও দর্শন: কিছু প্রাসঙ্গিক ভাবনা

হুমায়ুন ফরীদির মতো মানুষেরা আমাদের শিখিয়ে যান কীভাবে ভালোবাসার ঋণ রেখে যেতে হয়। কিন্তু আমরা কি আমাদের জীবন ও শরীর নিয়ে ততটা সচেতন?


🌐 লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টিপস

ফরীদি ভাই ভোজনরসিক ছিলেন কি না জানা নেই, তবে সুস্থ থাকতে আমাদের খাবারের প্রতি যত্নশীল হওয়া জরুরি।

স্বাস্থ্যকর খাবার:

রেসিপি ও রিভিউ:

প্রযুক্তি ও অনলাইন আয়:

উপসংহার: হুমায়ুন ফরীদি চলে গেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন তাঁর কর্ম আর এমন অসংখ্য মানবিক গল্প। তাঁর এই গল্পগুলো আমাদের শিখিয়ে যায়—বড় শিল্পী হওয়ার আগে বড় মানুষ হওয়াটা কতটা জরুরি। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন। আমিন।

পাঠক প্রতিক্রিয়া

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আপনার চিন্তা শেয়ার করুন!